মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ঐতিহ্যবাহী মানিকছড়ি মং রাজবাড়ী

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার প্রবেশদ্বার মানিকছড়ি উপজেলা ঐতিহাসিক মং সার্কেলের চীফ মং রাজার পুরাতন আদিনিবাস। তার পাশে জেলার একমাত্র বিশ্ব শান্তি উদ্দেশ্যে স্থাপিত রাজ মহামূনি বৌদ্ধ চৈত্য। চৈত্য টিলায় অনেক শত বছরের বটবৃক্ষ এবং স্থাপত্য শৈলী কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে। রাজ প্রাসাদের হাজারো স্মৃতি বুকে লালন করে, এলাকার পাহাড়ি ও পুরাতন বাংগালী প্রজারা এখনো কেঁদে উঠে ঠুকরে ঠুকরে ।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, খাগড়াছড়ি মং সার্কেল রাজা বীর মুক্তিযোদ্ধা মংপ্রু সাইন বাহাদুর ১৯৮৪ সালে পরলোক গ্রহণ করার পর তাঁহার সহ-ধর্মিনী রানী নীহার দেবী রাজ্যভার গ্রহণ করে । পরবর্তীতে র্বাধক্য জনিত রোগের কারণে তিনিও ১৯৯১ সালে পরলোক গমন করেন। তখন থেকে মানিকছড়ি রাজ্য উত্তরাধীকারী নিয়ে শুন্যতা সৃষ্টি হয় (১৯৯১-১৯৯৮)সাল পর্যন্ত। পরে মং রাজার মংপ্রু সাইনের ভ্রাতুষপুত্র জেলা তথ্য কর্মকর্তা অবসর প্রাপ্ত পাইহ্লাপ্রু চৌধুরী ১৯৯৮ সালে রাজ্য পরিচালনায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তৎকালীণ খাগড়াছড়ি জেলার তথ্য অফিসার ছিলেন। ইউএনডিপি’র আমন্ত্রনে বিদেশ সফর শেষে ২০০৮ সালের ঢাকা থেকে সৌদিয়া বাস যোগে খাগড়াছড়ি’র উদ্দেশ্যে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় রাজা পাইহ্লাপ্রু চৌধুরী মারা যান । এর পরবর্তী তাঁহার একমাত্র কম বয়সী পুত্র সাচিংপ্রু চৌধুরী রাজ সিংহাসন আরোহণ করেন। বর্তমানে তিনিই স্থায়ী মং রাজা হিসেবে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বর্তমানে রাজা সাচিংপ্রু চৌধুরী খাগড়াছড়ি সদরের গোলাবাড়ী হেডম্যান পাড়াস্থ (রাজ পাড়া) স্থায়ী ভাবে বসবাস করছে। মানিকছড়ির মং রাজার ঐতিহাসিক স্থাপত্য নির্দশন গুলো বর্তমানে বিলুপ্ত পথে রয়েছে ।

মং রাজা মংপ্রু সাইন আমলে মায়ানমার (বার্মা) মান্ডালয় থেকে বিশ্ব শান্তি মহামূনি রাজ বৌদ্ধ চৈত্যের মূহামনি বুদ্ধ মূর্তি স্থাপন করেন । তখন থেকে প্রতি বছরের পহেলা বৈশাখে ১৪ এপ্রিল মারমাদের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উপলক্ষে মেলা বসে আসছে । এখানে আসা র্দশনার্থীরা মহামুনি বুদ্ধ চৈত্যের ঢুকলে ভেঙ্গে পড়ার আশংক্ষা করেছেন অনেক পুন্যার্থীরা। এ ছাড়া মহামুনি টিলায় সিড়িঁ গুলো বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভেঙ্গে গেছে । এই স্থাপনা গুলো বর্তমানে সংষ্কারের অভাবে বিভিন্ন অংশের ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া মুহামনি টিলায় পূরাকীর্তি স্থাপত্য মং রাজ পরিবারের রাজা ও পরিবারে সদস্যদের স্বৃতি মঠ, নানুমা দেবী হল, রাজ জেত বন বৌদ্ধ বিহার সহ গুরুত্ব পূর্ণ স্থাপনা গুলো সংস্কারের অভাবে বিলীনের পথে রয়েছে।

কিভাবে যাওয়া যায়:

খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানিকছড়ি আমতল অথবা মহামূনি নামক স্থানে নেমে রিক্সাই অথবা পায়ে হেঁটে মং রাজবাড়ীতে যাওয়া যায়।